দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে অডিটের সময় অডিট দলের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে নিরীক্ষার সময় প্রায় সাড়ে ২১ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই অডিট দল ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৬ লাখ টাকা এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছে বলে জানা গেছে। তিন শিক্ষা বোর্ড থেকে মোট সাড়ে ৩৯ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড পাঁচ বছরের পরীক্ষার খাতা একসঙ্গে কিনে প্রায় ২১ কোটি ২৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেয়। বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত খাতার চেয়ে কম সরবরাহ করলেও পুরো বিল উত্তোলন করেছে। ফলে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অডিট চলাকালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে উপ-দলনেতা সৌরভ হাসান ব্যাংকের মাধ্যমে একটি নারী ব্যক্তির হিসাবে সাড়ে ২১ লাখ টাকা জমা করেন। একইভাবে ময়মনসিংহ ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডেও ঘুষ লেনদেন হয়।
বোর্ডের গোপন তহবিল থেকে এই ঘুষের টাকা সরবরাহ করা হয়। মার্কশিট ও সনদপত্রের অতিরিক্ত ফি থেকে জমা হওয়া টাকা এই তহবিলে ব্যবহৃত হয়।
অডিট দলের কয়েকজন সদস্য ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করলেও আর্থিক লেনদেনের কিছু তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে আসে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান স ম আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ধরনের আর্থিক অনিয়ম শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এসব অনিয়ম দূর করা জরুরি।
0 মন্তব্যসমূহ